কন্ট্যাক্ট লেন্সে একটি লেজার
গ্লুকোমা নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণে চোখের ভেতরের চাপ একটি মূল সংখ্যা। অথচ তা মাপেন কেবল চিকিৎসাকর্মীরা, ক্লিনিকে যাওয়ার সময়। এই বিক্ষিপ্ত পাঠ দিনের মধ্যে ঘটা ওঠানামাগুলো ধরতে পারে না — লেখকেরা যেগুলোকে নির্ভুল নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন।
একটানা সেন্সরের জন্য কন্ট্যাক্ট লেন্স স্বাভাবিক জায়গা: এটি চোখের ওপরেই থাকে, আর গবেষণাপত্রটি উল্লেখ করে যে ১৪ কোটিরও বেশি মানুষ ইতিমধ্যে তা পরেন। নরম লেন্স কর্নিয়ার আকার অনুসরণ করে, যা চাপ বাড়লে খুব সামান্য ফুলে ওঠে — কয়েক মিলিমিটার পারদ (mmHg) চাপে প্রায় ০.১% বিকৃতি (strain), যা চিকিৎসকদের দরকারি সূক্ষ্মতা। কঠিন কাজটি হলো পাতলা, স্বচ্ছ এক টুকরো প্লাস্টিকের ভেতরে এত ক্ষুদ্র প্রসারণ মাপা।
ডোরা গোনার সীমা
বেশ কিছু আলোকীয় সেন্সর লেন্সের বিকৃতি পড়ে একটি নিয়মিত নকশা থেকে — একটি গ্রেটিং, একটি ফোটোনিক কেলাস, দুটি পরস্পরের ওপর বসানো গ্রেটিং — যার ব্যবধান লেন্স টানটান হলে বদলায়। দুবাইয়ে XPANCEO-র গবেষণাকেন্দ্রের সের্গেই ইভানভ, ইলিয়া ফ্রাদকিন ও সহকর্মীরা একটি মৌলিক সমস্যা দেখান: এ ধরনের যেকোনো সেন্সরের নির্ভুলতা নকশার পুনরাবৃত্তির সংখ্যায় সীমিত, যা অনিশ্চয়তা নীতিরই একটি ফল। লেন্সে পাওয়া কয়েক মিলিমিটার জায়গায় সেই সীমা প্রয়োজনের অস্বস্তিকর রকম কাছাকাছি।
তাঁদের ধারণা হলো অন্য কিছু পড়া: একটি লেজারের রং।
যে লেজার টানলে প্রসারিত হয়
দলটি একটি বণ্টিত-প্রতিক্রিয়া লেজার (distributed-feedback laser) বানিয়েছে: F8BT নামের একটি জৈব রঞ্জকের প্রায় ৩০০ ন্যানোমিটার পুরু পর্দা, যার পৃষ্ঠে প্রতি ৩৩৫ ন্যানোমিটারে ঢেউ খেলানো। ঢেউগুলো লেজারের আয়নার কাজ করে। সবুজ আলোর ছোট ছোট স্পন্দনে ঝলকানো হলে পর্দাটি প্রায় ৫৭০ ন্যানোমিটারে হলদে-সবুজ আলোর খুব সরু একটি রেখা নিঃসরণ করে, যা প্রায় সোজা ওপরের দিকে বেরিয়ে আসে।
সেই রেখার তরঙ্গদৈর্ঘ্য ঠিক হয় ঢেউয়ের ব্যবধান দিয়ে। লেন্সটি টানুন, ব্যবধান বাড়ে, আর রেখাটি লালের দিকে সরে যায়। সুবিধাটা বড় সাড়া নয় — সেটা সাধারণ ব্যাপার — বরং অনেক সরু একটি রেখা, যার প্রস্থ গ্রেটিংয়ের আকারের ওপর নির্ভর করে না। সরু রেখার অবস্থান, নীতিগতভাবে, অনেক বেশি নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়।
গ্রেটিংটি অতিবেগুনি আলো দিয়ে একবারের উন্মোচনে লেখা হয়, রঞ্জকে প্রতিলিপি করা হয়, তারপর ঘরের তাপমাত্রায়, আঠা বা চাপ ছাড়াই, নরম সিলিকন লেন্সের ওপর ভাসিয়ে বসানো হয়। লেখকেরা বলেন, প্রক্রিয়াটি একবার-ব্যবহার্য লেন্সের ব্যাপক উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নকল চোখে পরীক্ষা
যন্ত্রটি পরীক্ষা করতে তাঁরা একটি কৃত্রিম চোখ বানিয়েছেন: কর্নিয়া ও স্ক্লেরার আকারের একটি সিলিকন ঝিল্লি, একটি মোটরচালিত সিরিঞ্জে চাপ দেওয়া একটি কক্ষের ওপর, আর অশ্রুর বদলে সিলিকন তেল। ৪০ mmHg-তে এর কর্নিয়া প্রায় ১৫০ মাইক্রোমিটার উঁচু হয়, এবং লেখকেরা দেখান যে এটি আসল চোখের মতোই মাপে বিকৃত হয় — যদিও জোর দিয়ে বলেন, এটি অত্যন্ত সরলীকৃত একটি মডেল।
লেজারের অংশটি কর্নিয়ার কিনারার কাছে বসিয়ে, যেখানে লেন্স সবচেয়ে বেশি টানটান হয়, তাঁরা একবার চাপ ৪৫ mmHg পর্যন্ত তুলে আবার নামান। চাপ বাড়ার সঙ্গে লেজার-রেখাটি লালের দিকে সরেছে, প্রতি mmHg-তে ০.০২৭ ন্যানোমিটার। দশটি ক্রমাঙ্কন-বিন্দু জুড়ে পাঠগুলো একটি সরলরেখা থেকে গড়ে ১.২ mmHg বিচ্যুত হয়েছে — পর্যবেক্ষণের জন্য দরকারি নির্ভুলতার মাত্রা।
এর অর্থ নিয়ে লেখকেরা খোলামেলা। এই নির্ভুলতা একই আকারের একটি নিষ্ক্রিয় গ্রেটিংয়ের তাত্ত্বিক সীমার সমমাত্রার; এখনো তাকে ছাড়িয়ে যায়নি। বর্তমান বাধা হলো গবেষণাগারে ব্যবহৃত বর্ণালিমাপক ও চাপমাপক, আর ত্রুটির একটি অংশ আসে পরীক্ষার সরঞ্জাম থেকেই।
চোখ পর্যন্ত পৌঁছাতে এখনো অনেক পথ
আলোচনা অংশে বাকি কাজের তালিকা দেওয়া আছে:
- নিরাপত্তা: প্রতিটি পাঠে লাগে ৮ ন্যানোসেকেন্ডের একটি ঝলক; রেটিনায় পৌঁছানো আলো মাপা আঘাত-সীমার প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ বলে অনুমান করা হয়েছে।
- একীকরণ: পাম্প-লেজার ও বর্ণালিমাপক আজ বাইরে; দলটি ছোট সবুজ লেজার ডায়োড ও ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য-পাঠকের প্রস্তাব দেয়।
- তাপমাত্রা: লেন্স এক ডিগ্রি গরম হলে পাঠ প্রায় ২ mmHg সরে যায়, তাই আসল যন্ত্রকে তাপমাত্রাও মাপতে হবে।
- জৈব-সামঞ্জস্য: রঞ্জক-পর্দাটি আপাতত পৃষ্ঠের ওপর বসানো; একে লেন্সের ভেতরে বন্ধ করে পরীক্ষা করতে হবে।
প্রাণীর চোখে, তারপর মানুষের ওপর যাচাই এখনো সামনে। লেখকেরা সবাই XPANCEO কোম্পানির; কাজটির ওপর কোম্পানির নামে থাকা একটি পেটেন্ট-আবেদন ছাড়া তাঁরা আর কোনো স্বার্থের সংঘাত ঘোষণা করেননি।
